পোস্টগুলি

চিঠি লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

যাকে আমি মেইল দেই না

ছবি
​​প্রিয় "ইয়ে", সম্বোধনটা যথেষ্ট গুরুতর হয়ে গেছে রে। "ইয়ে" বলে কাউকে ডাকাটা খুবই ইয়ে দেখায়। কিন্তু তোর নামটা না লিখে কী যে লেখা যায়—সেটা ভেবে পেলাম না। বল তো কী লেখা যায়? ​​ আমার সম্বোধনের মত তোর অভিযোগটাও গুরুতর, আমি আর মেইল দেই না। অভিযোগটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই, কারণ সেটা একশোভাগ সত্যি। মেইল দেয়ার প্রয়োজন ফুরিয়েছে না? আমরা আবারও সস্তা হয়ে যাওয়া শুরু করেছি। তুই একটুখানি, আর আমি অনেকখানি। আমি কিন্তু পারলে ফেসবুকটা বন্ধ করে দিতাম। আবারও মেইল-মেইল আর ফোন-ফোন খেলতাম। মাসকয়েক আগের ঐ দিনগুলো কী চমৎকার ছিল, জানিস? হাতে​​গোণা পাঁচ-সাতজনের সাথেই কথা হত কেবল। কিন্তু যাদের সাথে হত, একদম একশোভাগ খাঁটি কথা হত। মানে, অদ্ভুত ব্যাপারস্যাপার ছিল​​—​মনে কর, ​​অর্ণবের সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই, এবং নেই মানে একেবারেই নেই, শূন্য। আর পদ্মর সাথে যোগাযোগ আছে—সেটার ​অর্থ হল, ​কয়েকদিন পরপর​ বাসায়​ বসে​ আড্ডা, আর কয়েকবার করে ফোনে​ চেঁচামেচি।  প​দ্মদের বাসায় কতদিন যাই না জানিস? আবার ফেসবুকটা বন্ধ করে দিতে পারলে ভালো হত কিন্তু। সবার কাছ থেকে পাওয়া ছোট ছোট চ্যাটের পর...

পেত্নী

ছবি
১০ ডিসেম্বর, ২০১৬ ঢাকা, বাংলাদেশ। প্রিয় নিঝুম, থাপ্পড় দেয়া দরকার তোকে। চিঠিটা আরেকটু নরমভাবে শুরু করা যেত, স্বীকার করছি। সত্যি বলতে কী, প্রথমে ভেবেছিলাম তোকে কিছুই বলব না জন্মদিনে। রাত সাড়ে এগারোটায় এসে মনে হল, নাহ, কিছু বলে ফেলা যায়। মানুষ হয়ে জন্ম নেয়ার এটা একটা অসুবিধা। তুই নিজেও নিশ্চিতভাবে বলতে পারবি না তুই কী চাস। আচ্ছা, তুই কী চাস? মাসকয়েক আগে একটা কথা বলেছিলি। খুব সম্ভবত আর্ট সামিটের সময়। তুই নাকি সলিচিউডের ভেতরে পরম শান্তি খুঁজে পেয়েছিস, এবং শাফিন ভাই নাকি এই নিয়ে যথেষ্ট মনটন খারাপ করছে। কথাটা যদি সত্যি হয়, শাফিন ভাইকে ঠিক দোষ দিতে পারবো না। আবার তোকেও দোষ দিতে পারবো না। তুই যেমন টুইস্ট করে সলিচিউডে গেছিস, আমি ঠিক তেমনই টুইস্ট করে সলিচিউড থেকে বের হয়ে এসেছি। এটাকে তুই কী নামে ডাকিস? আমি এটাকে জন্ম বলি। আমার অসংখ্যবার জন্ম হয়েছে। জন্মের প্রক্রিয়াটা কখনই খুব একটা আনন্দদায়ক কোনো ব্যাপার না। অসম্ভব কষ্টের ভেতর দিয়ে একেকটা জন্ম হয় এই পৃথিবীতে—সেটা যে ধরনের জন্মের কথাই বলিস না কেন। কাজেই আমার প্রতিটা জন্মই হয়েছে একেকটা ধাক্কার মধ্য দিয়ে। সেই ধাক্কায় চারপাশের...

তামান্নার কাছে চিঠি

ছবি
৬ ডিসেম্বর, ২০১৬ ঢাকা, বাংলাদেশ। ঐ, ​​বুঝছিস, আমার না, লিখতে অনেক ভালো লাগে। প্রতিটা দিন বসে বসে লিখতে ইচ্ছে করে। আর বই পড়তে ইচ্ছে করে। অবশ্য, লেখাকে পেশা হিসেবে নেয়ার ইচ্ছে কোনোকালেই ছিল না, এখনও নেই। তবু, যদি লিখতে পারতাম, মনে হয় ভালো হত। মানে, আমার ভালো লাগত আরকি।​ এবং আমার কাছে এখন মনে হয়, আমি কিছু ভুল করেছি। সবকিছু বাদ দিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে। সবকিছু বাদ দিয়েছিলাম। বন্ধু, প্রেম, জীবন, অভিজ্ঞতা—সবকিছুই। পড়াশোনাটা ছিল প্রথম প্রায়োরিটি। তোদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, আমার মত একজন মানুষের বন্ধু থাকার কথা ছিল না। তবু, তোরা ছিলি। এসএসসির পরের সময়টা, পুরো কলেজ জীবনটাই তোরা আমাকে সাপোর্ট দিয়েছিলি। অদ্ভুত একটা সময় ছিল সেটা। মনে আছে, সারাক্ষণ তোদের সাথে কথা বলতাম? দিনের একবেলা কেউ কথা না বললেই রীতিমত ঝগড়া হয়ে যেত! যেকোন দুজনের মাঝে ঝগড়া হলে তখন অন্য দুজনকে এগিয়ে আসতে হত সেই ঝগড়া থামানোর জন্য। একটা ঘটনা খুব মনে পড়ে। আমি দাদুবাড়ি যাচ্ছিলাম। আমার তো সবসময়ই মরবিড চিন্তাভাবনা। নানু মারা যাওয়ার পর থেকে সেটা আরও বেড়ে গিয়েছিল (অথবা শুরু হয়েছিল)। প্রতিবার দাদুবাড়ি যাওয়ার আগে ত...