পোস্টগুলি

জন্মদিন লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সন্ধ্যাপ্রদীপ

ছবি
সেঁজুতি কোথায়, কে জানে। আমি জানি না।  মেয়েটা কেমন আছে, সেটাই বা কে জানে! আমি জানি না।  শেষ কবে বেচারার সাথে ঠিকমত কথা বলেছি মনে পড়ে না। তবে প্রথম যেদিন বলেছিলাম, বেশ মনে আছে সেই কথা। অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছিলাম বাচ্চাটার ওপর। মনে হচ্ছিল, এমন নেকু নেকু বাচ্চাদের সাথে কাজ করা বড় মুশকিল। পরে জেনেছি, এই বিরক্তিটা ছিল দ্বিপাক্ষিক। সেঁজুতিও ভেবেছিল, এইসব আঁতেল-টাইপ ভাইদের সাথে কাজ করবো কীভাবে!  অনেক পরে, আমাদের যখন এই বিষয়টা নিয়ে কথা হয়, তদ্দিনে আমরা একটু করে বুড়ো হয়েছি, বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহে ঋদ্ধও হয়েছি, এবং আমরা গেছি অলৌকিক কিছু প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে, ফলে দ্বিপাক্ষিক বিরক্তির কথা শুনে আমি হেসে ফেলি, এবং সেঁজুতি হাসে তার ত্রিগুণ, হেসে কুটিকুটি হওয়ার আগ পর্যন্ত সে থামতে চায় না!  আমার মনে পড়ে না, যেই মেয়েটার ওপর আমি অত্যন্ত বিরক্ত ছিলাম, সে কীভাবে অত দ্রুত আমার ডান হাত হয়ে উঠেছিল। হিসেব কষে এসব বের করা যায় না, আমি বারবার বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু এই বিভ্রান্তির মাঝেও আমার বারবার মনে পড়ে সেইদিনের কথা, যে রাতে সেঁজুতি প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একটা ঘোরের জগতে চলে যা...

অথৈ সমুদ্র

ছবি
এক. আঠারোই মার্চ নিয়ে যে লিখতে পারে—সে হয় দুঃসাহসী, নাহয় গাধা। নিঃসন্দেহে আমি দ্বিতীয় দলে। মেয়েটাকে আমি প্রথম দেখি বছর দুয়েক আগে। জগদীশ বসু ক্যাম্পে। তেমন কোন বিশেষভাবে না, যে মুহূর্তে সবাই প্রথমবারের মত তাকে খেয়াল করল, আমিও করলাম। (মুদ্দাসসেরকে কি এজন্য একটা সাধুবাদ জানানো উচিত? উচিত বোধহয়।) পনেরোর সেই সেপ্টেম্বরে আমি সমুদ্রের অনেক, অনেক উপর দিয়ে ঘুরে বেড়াতাম, সমুদ্রের গভীরে যে কিছু আছে—এই নিয়ে আমার ধারণা ছিল না। কাজেই আমার বিশ্বাস, মেয়েটার সাথে যদি প্রথমবার পরিচয় না হত, কখনই দ্বিতীয় পরিচয়টা হত না। এবং অবশ্যই তৃতীয়, চতুর্থ এবং অসংখ্যবারের মত পরিচয় হত না, অবশ্যই না। অনেক ওপর দিয়ে যারা উড়ে বেড়ায়, তাদের পক্ষে সমুদ্রের গভীরে থাকা মানুষগুলোর সাথে যোগাযোগ করা কঠিন। কাজেই মেয়েটার সাথে আমার কখনই কথা হয়নি। কেবল ক্যাম্পের শেষদিন, সেই ঘোরলাগা সকালে চলে আসার আগে বলে এসেছিলাম, ভালো থাকিস। এমনিই বলেছিলাম, সাদাসিধে ভদ্রতা যেটাকে বলে। সমস্যাটা শুরু হল… আগস্টে? সম্ভবত। পুরো একটা বছর পার করে, আগস্টের এক সকালে আমরা ক’জন একটা স্কুলের গেট পার করে ভেতরে ঢুকলাম, আর গেটের ঠিক সা...

না পিচ্চি - না বুড়ো

ছবি
জগদীশ বসু একটা গল্পের ফ্যাক্টরি। প্রতিবছর একগাদা গল্পের জন্ম হয় এই ক্যাম্পে, আর জন্ম হয় কয়েকজন মানুষের। গত জগদীশ ক্যাম্পে যাদের জন্ম হয়েছে তাদের একজন আজরা। মেয়েদের বয়স জিজ্ঞেস করতে নেই, তাই পৃথিবীর সাতশো কোটি মানুষের কেউ বলতে পারে না আজরার বয়স কত। তবে মেয়েটার সাথে পাঁচ মিনিট কাটালেই যে কেউ বলে ফেলতে পারবে, আজরার বয়স কমবেশি একশো বছর, কিংবা তারও বেশি। ক্যাম্পের এমন কোন বুড়ো নেই যে আজরার কাছে বকা খায়নি। বকা খাওয়ার কারণগুলোও বড় গুরুতর। শাফিন ভাই বকা খেয়েছে, কারণ সে জলের গান শোনে না। আমি খেয়েছি, কারণ মেকানিক্সের লেকচারটা কঠিন হয়ে গেছে। ইবরাহিম ভাই খেয়েছে, কারণ সে আজরার খাতা লুকিয়ে রেখেছিল। আমার এই বুড়ো বোনটা অবশ্য পড়ে ক্লাস সেভেনে। গার্লস ক্যাম্পের শেষদিনের লেকচারগুলো যখন আধ্যাত্মিক পর্যায়ে চলে যেতে শুরু করল, তখন বুড়োটা হতাশ হয়ে ক্লাসের পেছনের বেঞ্চে বসে পড়ল। আমি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম, জগদীশ বসুর কল্যাণেই কিনা কে জানে, স্পষ্ট বুঝতে পারলাম কী ভাবছে পিচ্চিটা। তার পাশে বসে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলাম, ক্লাস কি কিছুই বুঝতেসিশ না? পিচ্চিটা বিশাল চশমার ভেতর দিয়ে বড় বড় করে তাকিয়ে বলল, ...