পোস্টগুলি

হাস্যরস লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দেবতার গ্রাস

ছবি
এক. শেষবিকেল। এই সময়ে কার্জনের পুকুরপাড়ে অনেক ছেলেমেয়ে থাকার কথা। আজ বোধহয় রোদটা একটু চড়া দেখেই খুব বেশি মানুষ দেখা যাচ্ছে না। কেবল তিনটে ছেলেমেয়ে বিধ্বস্ত ভঙ্গিতে বসে আছে। বামদিকের ছেলেটার নাম শাফিন। বয়স বাইশ বছর হয়ে গেলেও তাকে দেখে সতেরোর বেশি মনে হয় না। বাইশ বছরের যেই ছেলেকে সতেরো বলে মনে হয়—তাকে সবাই খুব আদর করে। কাজেই শাফিন থার্ড ইয়ারে উঠেও ভার্সিটিতে আদুরে বেড়ালের মতই ঘুরে বেড়ায়। বড় ভাইদের সাথে দেখা হলে ম্যাঁও ম্যাঁও জাতীয় শব্দ করে আদর নেয়ার চেষ্টা করে। আদর সে পায়ও বটে। শোনা যায়, মাস্টার্সের কোন এক বড়ভাইয়ের সাথে তার খুবই খাতির। দুজন মিলে নাকি রাঙামাটির কোন এক জঙ্গলে…আচ্ছা, সে কথা থাক। সব রহস্য সবখানে ফাঁস করতে নেই। শাফিনের ডানদিকে নোবেল আর শাওন বসে আছে। নোবেল কিছুক্ষণ পরপর ফিক করে হেসে ফেলছে। হাসির শব্দ শুনে শাওন বারবার বিষদৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। মেয়েরা সাধারণত হাসিখুশি হয়। মোটা মেয়েরা আরও বেশি হাসিখুশি হয়। আর প্রস্তরযুগের হাতির মত মোটা মেয়েরা খুবইইই বেশি হাসিখুশি হয়। শাওন প্রস্তরযুগের হাতির মত মোটা। কাজেই সে খুবই হাসিখুশি থাকে। তবে আজ বোধহয় তার মন একটু খারাপ। চোখের দৃষ্টি...

কুটুস!!

হাই!! আমি একজন মশা। আমার নাম মিস পিনপিন। আজ রাতে আমি মুবিনের বাসায় যাচ্ছি। লোকমুখে শুনেছি তার রক্ত নাকি বড়ই সুস্বাদু। একবার না খেলে জীবনই বৃথা। তাই ভাবলাম, একবার খেয়েই আসা যাক মুবিনের রক্ত! শুরুতেই এই ছেলেটার পরিচয় দিয়ে নেই। ইয়াআআআ মোটা একটা ছেলে। মানে, একটা ছেলে যতটুকু মোটা হলে তাকে দেখে রাস্তায় মেয়েরা খিল খিল করে হাসতে শুরু করে— ঠিক ততটুকুই মোটা! মুবিন থাকে জাপান গার্ডেন সিটিতে। আমি আমার ছোট বোনের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে এসেছি। ও গত পরশু রাতেই মুবিনের রক্ত আস্বাদন করে এসেছে তার এক বান্ধবীকে নিয়ে। এখন দুই বান্ধবীই মুবিন বলতে অজ্ঞান! ছেলেটা নাকি পুরাই অস্থির। আমার তো একটু ভয়ই হচ্ছে, আমার ছোট বোনটা মুবিনের প্রেমে পড়ে গেল কিনা! ওর রুচি অবশ্য বরাবরই জঘন্য। যাই হোক, জাপান গার্ডেনের গেট দিয়ে ঢুকে আমি পুরাই থ! সারি সারি বাড়ি। ইঁটের পরে ইঁট, মাঝে মানুষ কীট। এখন মুবিনকে পাই ক্যামনে? এক গার্ড বসে ঝিমাচ্ছিল। ওকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, excuse me , রক্তে ভরপুর মুবিন মোটকুর বাসা কোনটা, একটু দেখিয়ে দিবেন? গার্ড ব্যাটা বড় বেয়াদব! বাসা তো দেখিয়ে দিলই না, উলটা বলল, শালার মশা বহুত জ্বালায়! সারারাত ধ...

আষাঢ়ে!

টুনিইইইই তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচবো নাআআআ!! পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত টুনিকে কথাটা বলেই ফেলল মন্তু। টুনি বিব্রত। হঠাৎ পুকুরপাড়ে মকবুল বুড়ার আবির্ভাব! দু হাত কোমরে দিয়ে কঠিন দৃষ্টিতে সে মন্তুর দিকে তাকিয়ে। মন্তুর আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার উপক্রম। আইজকা তরে মাইরাই ফালামু!! মকবুল হুংকার ছাড়ে। হুংকার দিতে দিতেই লুঙ্গির ভিতর থেকে বের করে আনে একটা বন্দুক! বন্দুকটা মন্তুর দিকে তাক করে বলে, ছেড়ে দে শয়তান, ছেড়ে দে আমার টুনিকে। তোর বাসায় মা বোন নেই? বউ নেই! মা বোন থাকলে কি আর টুনির সাথে ইটিস পিটিস করি? মন্তু মনে মনে ভাবে। আর মুখে বলে, ছরি ছার। আমার কুনো দোষ নাই। সব দোষ টুনির! এইবার মকবুলের বন্দুক তাক হয় টুনির দিকে! টুনিইইই খাইসি তোরে!! টুনির মুখটা করুণ হয়ে যায়। মকবুলের দিকে তাকিয়ে দুঃখভরা গলায় সে বলে, ওগো, গুলি করবা কর কিন্তু একটু আস্তে কর। বেশি জোরে করলে আমার ব্যথা লাগে। মকবুলের কি আর অত কথা শোনার সময় আছে! সে এর মধ্যেই বন্দুকের ট্রিগার টিপে দিয়েছে। কাজেই একটা গুলি বের হয়ে ছুটে যেতে শুরু করল টুনির দিকে। মন্তু বিস্ফোরিত চোখে টুনির দিকে তাকিয়ে। টুনি নির্বিক...