পোস্টগুলি

ভ্রমণ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ব্রহ্মার পুত্র, ব্রহ্মার কন্যা

ছবি
[আরিফের জন্য মৃদু সতর্কবার্তা। ফারহার জন্য ছয় নম্বর বিপৎসংকেত। বাকিদের সমস্যা নেই।] গতকাল ময়মনসিংহ গিয়েছিলাম। গাধাটা ক’দিন ধরে বেশ মনটন খারাপ করে বসে আছে। ভাবলাম, আমরা দু-একজন আড্ডা দিয়ে আসলে ভালো কিছু হতে পারে। পরিকল্পনা ছিল যে, গতকাল আমি যাব, আর আজ-কাল আরেকজন যাবে। প্রায়ই পাগল দুটোকে যখন বিদায় দিয়ে বাসে তুলে দেই, তখন মনে হয়, দুম করে বাসে উঠে ময়মনসিংহ চলে যেতে পারলে মন্দ হত না। কে জানে, সেকারণেই গতকাল বাসে চড়ে বসতে এত বেশি ভালো লেগেছিল কিনা! এবং ময়মনসিংহ নেমেও কেন যেন বড় ভালো লাগলো। অটোতে করে নিজেই শহরের রাস্তাগুলো খুঁজতে গিয়ে পুরো শহরটাকে হঠাৎ করেই খুব বেশি আপন মনে হল—যতখানি আগে কখনই হয়নি। এবং ঠিক সেই মুহূর্তেই, অটোতে বসে ঠিক করলাম যে, রিয়াকে ফোন দিয়ে বলবো, খুব খিদে পেয়েছে, যেন দুপুরে একটু খেতে দেয়! টাউন হলে এসে নেমে পড়লাম। শীতের দুপুরে মোড়টা দেখতে বড় সুন্দর লাগছিল। ওপাশে একটা হলদে রঙের দোতলা বাড়ি আছে—সেটার গায়ে যখন রোদ পড়ে—মুগ্ধ হয়ে দেখতে হয়। আমি কলেজের পাশের রাস্তাটা ধরে হাঁটতে হাঁটতে রিয়াকে ফোন দিলাম। গাধাটা রীতিমত কানফাটানো একটা চেঁচানি দিল, ‘আল্লাহ, ভাইয়া ...

এ্যালানার গল্প এবং একটুখানি বরিশাল

ছবি
আমার সমবয়সী বন্ধুদের মধ্যে কেমন যেন একটা অভিভাবক-টাইপ ভাব থাকে। অবশ্য, সমবয়সী বা আছে ক’জন। আঙুলে গুণে ফেলা যাবে, এবং সেটা হাতের আঙুল ছাড়িয়ে পা পর্যন্ত যাওয়ার কথা না। তাদের একজনের নাম এ্যালানা। এবার বরিশালে গিয়ে এ্যালানার সাথে দেখা করেছিলাম, অনেকদিন পর। এবং কোন এক অদ্ভুত কারণে, বরিশালের গল্প অনেকের কাছে করলেও এ্যালানা মেয়েটার প্রসঙ্গ আসেনি। ঘুরেফিরে আমরা বরিশালের স্কুলগুলো, সেখান থেকে কীর্তনখোলা, সেখান থেকে আবারও বরিশালের রাস্তা—এই গল্পগুলোতেই ফিরে এসেছি, কিন্তু এ্যালানার কথা বলার সময়টুকু হয়নি। আমার খুব ইচ্ছে ছিল, ওদের শহরে গিয়ে মেয়েটাকে ভড়কে দিব। কাজেই আগে থেকে কিছু বলিনি। ভুলেও যাচ্ছিলাম অবশ্য ওর কথা। আমরা যেই সকালে বরিশালের মাটিতে পা রাখলাম, সেদিন বড় বৃষ্টি হচ্ছিল। লঞ্চে অনেক রাত পর্যন্ত জেগে ছিলাম সবাই। কাজকর্ম করছিলাম। আমার ইচ্ছে ছিল আরেকটু কাজ করানোর, কিন্তু রাত তিনটার দিকে বাকি তিনজন বিদ্রোহ ঘোষণা করল। এখন নাকি এক কাপ চা না হলে কোনভাবেই চলছে না। কাজেই আমরা কেবিন ছেড়ে বাইরে বের হলাম, এবং আবিষ্কার করলাম মোটামুটি সারা লঞ্চ চুপচাপ, শান্ত, সবাই গভীর ঘুমে। কাজেই চ...

এলোকথন (কৃত্তিকা ২৪:১)

ছবি
এক. কিছুক্ষণ আগে একটা হুমকি পেয়েছি। চুপচাপ বসে ছিলাম। হঠাৎ করেই ধমকটা খেলাম। আজ রাতেই কিছু একটা না লিখলে আমি নাকি শেষ! শ’খানেক মাইল দূরে বসে এত সহজে হুমকি দেয়া যায়—কে জানতো। কী আর করা। যা মনে আসে, লিখে ফেলি। সমস্যাটা হল যে, মনে অনেক কিছুই আসে। সেই যে, words are flowing out like endless rain into a paper cup. কাজেই লিখতে গিয়ে বারবার দ্বিধায় পড়তে হয় আমাকে। গত কয়েক সপ্তাহে খুব অদ্ভুত কিছু ঘটনা ঘটেছে। আমার আফসোস হচ্ছে যে, আবারও ডায়েরি লেখার অভ্যাসটা নষ্ট হয়ে গেছে আমার। যদি থাকতো, তবে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ভরে যেত। এমনও তো দিন গেছে, লেখার তোড়ে রীতিমত আমার হাত কাঁপতে শুরু করেছে—শব্দগুলো যেন মাথাতেও আনার দরকার হচ্ছে না—চিন্তা থেকে সরাসরি আমার আঙুলে চলে যাচ্ছে, আর আমি লিখে ফেলছি। কে জানে, হয়তো সামনেই অমন দিন আবার আসবে। আজ অথৈ ফোন দিয়েছিল, অনেকদিন পর। প্রায় প্রতিদিনই ভাবি, পিচ্চিটাকে ফোন দিব। সেই কবে একবার সঞ্জীবের একটা গান শুনতে বলেছিল, সেই কথাটুকুর উত্তর না দিয়ে আমি যে ডুব দিলাম, আর খোঁজ নেই। অথৈ ফোন দিয়ে প্রথমে এই কথাটাই জিজ্ঞেস করল, আমি কোথায় হারিয়ে গেছি। আম...

এলোকথন (বিরলের ডায়েরি)

ছবি
[এলোকথন অর্থ কী? সম্ভবত, এলোমেলো কথাবার্তা। এই কথাগুলো কেবল নিজের ডায়েরিতেই লেখা উচিত, এর বাইরে না। তবে ভরসা এই যে, যেসব লেখা আমার নিজের জন্য, সেখানে আরও কয়েকজন মানুষের দাবি আছে।] ১৫ এপ্রিল, শনিবার বিকাল ৫:৩৭ ঘুমাইনি। ভাগ্যিস ঘুমাইনি! অথচ জেগে থাকার তেমন কোন কারণ ছিল না। সারারাত ট্রেনে এসে এবং সারাদিন ক্যাম্পে চেঁচামেচির পর একটা কথাই সত্য মনে হয়—ঘুম। সেই সাথে আজকে দিনাজপুরের আবহাওয়াটাও ঘুম ঘুম, চারিদিকে কেমন শান্তির একটা ভাব। সকালে অবশ্য ভালোই গরম ছিল। দুপুরে খাবার পর থেকে সবকিছু কেমন যেন দ্রুত পাল্টে যেতে শুরু করল। আমরা যখন সায়েন্টিফিক পেপারের লেকচারটা দিতে শুরু করেছি, আকাশটা একটু একটু করে কালো হচ্ছে। ঝড় আসার ঠিক আগে আগে বিদ্যুৎ চলে গেল, আর চারপাশ এমনই অন্ধকার হয়ে গেল, ক্লাসরুমে আর কাউকেই দেখা যায় না। খারাপ লাগছিল না ওভাবে ক্লাস নিতে। কারই বা খারাপ লাগে ওসব মুহূর্তে? ওদিকে বৃষ্টির ঝাপটা আসছে, আমি একবার করে ক্লাসের বাইরে যাচ্ছি, ফিরে এসে আবিরের কাছ থেকে ফ্লোর নিচ্ছি, তখন আবার আবির ক্লাসের বাইরে যাচ্ছে! Alternating lecture. পরে ঝড়টা যখন মোটামুটি প্রলয়ের র...

কীর্তনখোলা

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, রাত ১১ টা এই মুহূর্তে আমি বরিশালের গ্র্যান্ড পার্ক হোটেলের একটা বিছানায় পদ্মাসন গেড়ে বসে আছি। সারা ঘরে হলুদ আলো, যতটুকু আলো থাকলে সবকিছু স্পষ্ট দেখা যায়, অথচ একটুও চোখে লাগে না—ঠিক ততটুকুই আলো। যেহেতু জীবনানন্দের শহরে বসে আছি, কাজেই তার একটা কথা বলে ফেলা যায়, কথাটা আমার বারবার বলতে হয়েছে, বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন কারণে। এইসব ভালো লাগে। আজ দুপুরে এই শহরে নেমেছি। লঞ্চে করে। আমি একা না, আমার সাথে পরিবারের বাকি তিনজন, সত্যি বলতে কী— সব মিলিয়ে প্রায় একশোজন, আব্বু-আম্মুর অফিসের একটা প্রোগ্রাম, বুড়ো-বুড়ো রাগী-রাগী চেহারার ডাক্তাররা তাদের পরিবার নিয়ে বেড়াতে চলে এসেছে। সবাই মিলে বড় হইচই করছে, ডাক্তারদের আনন্দের উপলক্ষগুলো হয়তো এভাবেই আসে, কালেভদ্রে। আমি যেহেতু পাগল, আমি তাদের সাথে ঠিক নিজেকে মেলাতে পারি না। দূরে দূরে থাকি, একটু একা। লঞ্চে আসার সময় ছাদে উঠে নদী দেখছিলাম। লঞ্চ পানি কেটে এগিয়ে যাচ্ছে, আহা, কী চমৎকার একেকটা নদী, আর কী অপূর্ব একেকটা নাম, বুড়িগঙ্গা থেকে ধলেশ্বরী, তার সাথে শীতলক্ষ্যা এসে মিশলো, সেই নদী গিয়ে পড়লো মেঘনায়, মেঘনা নদী থেকে কীভাবে যেন কীর্...

এলোকথন (কিংবা, দিনাজপুরিয়ান নক্ষত্র)

হাজীপাড়া, ঠাকুরগাঁও ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৫, রাত ৯টা ৩০ মিনিট: কী নিয়ে লিখতে বসলাম নিজেও জানি না। কিছু লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে, এই আরকি। আমাদের এদিকে একটা গোরস্থান আছে। গোরস্থানটা শহরের একটু বাইরে। চারপাশে বেশ ফাঁকা, আর আলো কম। আমি সন্ধ্যার পরে সেখানে গিয়েছিলাম, ভিতরে ঢুকতে তো সাহস হয় না, বাইরের অন্ধকার রাস্তাটাতেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। (কারো মনে এখনও সন্দেহ থাকলে বলে ফেলছি, হু, তারা দেখার জন্যে। এই পাগল রাতেরবেলা অন্ধকার একটা ফাঁকা জায়গা আর কেন খুঁজে বের করবে!) আমি যখন পৌঁছেছি, একপাশ থেকে আমার রিজেল উঁকি দিচ্ছে। মানুষ হয়ে জন্মানোর বেশ কিছু অদ্ভুত দিক আছে। ছাগল হয়ে জন্মালে জীবনের সমীকরণটা অনেক সহজ হয়ে যায়, ঘাস দেখলে খুশি হবে, দড়ি দেখলে মন খারাপ করবে। আর এই যে মানুষ, সে যে কীসে খুশি হয় আর কীসে মন খারাপ করে....আমি নিজেই নিজেকে এদ্দিনে বুঝলাম না। অন্ধকার আকাশ, পুরো আকাশ নক্ষত্রে ছেয়ে গেছে, আমার হয়তো খুশিই হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু আমার অদ্ভুত এক ধরনের মন খারাপ হল। নিজেও ঠিক জানি না কেন। হয়তো ফুপীর জন্য। ফুপীর আসলে মৃত্যুর বয়স ছিলো না। ও বয়সেও মানুষ নতুন স্বপ্ন দেখে। সায়েন্স ল্যাবের মোড়ের অন্ধ লোকটার হয়ত...