পোস্টগুলি

মানুষ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সন্ধ্যাপ্রদীপ

ছবি
সেঁজুতি কোথায়, কে জানে। আমি জানি না।  মেয়েটা কেমন আছে, সেটাই বা কে জানে! আমি জানি না।  শেষ কবে বেচারার সাথে ঠিকমত কথা বলেছি মনে পড়ে না। তবে প্রথম যেদিন বলেছিলাম, বেশ মনে আছে সেই কথা। অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছিলাম বাচ্চাটার ওপর। মনে হচ্ছিল, এমন নেকু নেকু বাচ্চাদের সাথে কাজ করা বড় মুশকিল। পরে জেনেছি, এই বিরক্তিটা ছিল দ্বিপাক্ষিক। সেঁজুতিও ভেবেছিল, এইসব আঁতেল-টাইপ ভাইদের সাথে কাজ করবো কীভাবে!  অনেক পরে, আমাদের যখন এই বিষয়টা নিয়ে কথা হয়, তদ্দিনে আমরা একটু করে বুড়ো হয়েছি, বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহে ঋদ্ধও হয়েছি, এবং আমরা গেছি অলৌকিক কিছু প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে, ফলে দ্বিপাক্ষিক বিরক্তির কথা শুনে আমি হেসে ফেলি, এবং সেঁজুতি হাসে তার ত্রিগুণ, হেসে কুটিকুটি হওয়ার আগ পর্যন্ত সে থামতে চায় না!  আমার মনে পড়ে না, যেই মেয়েটার ওপর আমি অত্যন্ত বিরক্ত ছিলাম, সে কীভাবে অত দ্রুত আমার ডান হাত হয়ে উঠেছিল। হিসেব কষে এসব বের করা যায় না, আমি বারবার বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু এই বিভ্রান্তির মাঝেও আমার বারবার মনে পড়ে সেইদিনের কথা, যে রাতে সেঁজুতি প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একটা ঘোরের জগতে চলে যা...

ব্রহ্মার পুত্র, ব্রহ্মার কন্যা

ছবি
[আরিফের জন্য মৃদু সতর্কবার্তা। ফারহার জন্য ছয় নম্বর বিপৎসংকেত। বাকিদের সমস্যা নেই।] গতকাল ময়মনসিংহ গিয়েছিলাম। গাধাটা ক’দিন ধরে বেশ মনটন খারাপ করে বসে আছে। ভাবলাম, আমরা দু-একজন আড্ডা দিয়ে আসলে ভালো কিছু হতে পারে। পরিকল্পনা ছিল যে, গতকাল আমি যাব, আর আজ-কাল আরেকজন যাবে। প্রায়ই পাগল দুটোকে যখন বিদায় দিয়ে বাসে তুলে দেই, তখন মনে হয়, দুম করে বাসে উঠে ময়মনসিংহ চলে যেতে পারলে মন্দ হত না। কে জানে, সেকারণেই গতকাল বাসে চড়ে বসতে এত বেশি ভালো লেগেছিল কিনা! এবং ময়মনসিংহ নেমেও কেন যেন বড় ভালো লাগলো। অটোতে করে নিজেই শহরের রাস্তাগুলো খুঁজতে গিয়ে পুরো শহরটাকে হঠাৎ করেই খুব বেশি আপন মনে হল—যতখানি আগে কখনই হয়নি। এবং ঠিক সেই মুহূর্তেই, অটোতে বসে ঠিক করলাম যে, রিয়াকে ফোন দিয়ে বলবো, খুব খিদে পেয়েছে, যেন দুপুরে একটু খেতে দেয়! টাউন হলে এসে নেমে পড়লাম। শীতের দুপুরে মোড়টা দেখতে বড় সুন্দর লাগছিল। ওপাশে একটা হলদে রঙের দোতলা বাড়ি আছে—সেটার গায়ে যখন রোদ পড়ে—মুগ্ধ হয়ে দেখতে হয়। আমি কলেজের পাশের রাস্তাটা ধরে হাঁটতে হাঁটতে রিয়াকে ফোন দিলাম। গাধাটা রীতিমত কানফাটানো একটা চেঁচানি দিল, ‘আল্লাহ, ভাইয়া ...

বাক্‌সো

ছবি
প্রায় এক যুগ পর অথৈ পিচ্চিটা ফোন দিল। এটা আশ্চর্য না, তবে আশ্চর্য এই যে, কিছুদিন ধরে ঘুরেফিরে বারবার পিচ্চিটার কথা মনে পড়ছিল। মোটামুটি ছোটবেলা থেকেই কুইন শুনি, কিন্তু আজকাল কুইন শুনতে গেলে প্রায়ই অথৈয়ের কথা মনে পড়ে যায়। আমার ধারণা, এর পেছনে ফ্রেডি মার্কারির একটা বিশাল ভূমিকা আছে। গল্পটা বলে ফেলতে ইচ্ছে করছে। একটা ব্লকে আটকে ছিলাম, লিখতে গেলেই হাত আড়ষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। পিচ্চিটা ফোন দিয়ে এক ধাক্কায় ব্লক ভেঙে দিল! ফ্রেডি মারা যাবার আগের দিনগুলোতে বারবার করে বলছিল, “Write me more. Write me stuff. I want to just sing this and do it and when I am gone you can finish it off.” মৃত্যুর মাসকয়েক আগে ছেলেটা অসাধারণ কিছু গানও গেয়ে গেছে। সেই গানগুলো শুনলে মিশ্র একটা অনুভূতি হয়। একজন মানুষ যখন জানে যে সে মারা যাবে, আরেকটু স্পষ্ট করে বললে, রক ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ কিংবদন্তিদের একজন যখন জেনে ফেলে যে, সে কিছুদিনের মাঝেই মারা যাচ্ছে—তখন সে যা যা করতে পারে—সেটা আর দশটা মানুষের পক্ষে করা প্রায় অসম্ভব। গতকাল কুইনের শেষদিকের একটা গান হঠাৎ চোখে পড়লো, এদ্দিন পড়েনি। না পড়ে খুবই ভালো হয়েছে। গত কয়েক বছর ধর...

Eleanor Rigby

ছবি
আজকের রাতটা তাৎপর্যপূর্ণ একটা রাত। শেষ রাতের বৃষ্টিতে আমার শহরটা ভেসে যাচ্ছে। অথচ গতকাল ঠিক এই সময়ে বৃষ্টির কণামাত্রও ছিল না। আকাশজুড়ে খুব হালকা একটা আলো ছিল। কৃষ্ণা পঞ্চমীর চাঁদ কি অতক্ষণ থাকে? জানি না, কিন্তু একটা যে আলো ছিল—সেটা তো মিথ্যে না, আর সেই আলোয় আলাদা করে মেঘগুলো দেখা যাচ্ছিল। এত পবিত্র একটা দৃশ্য! গতকাল রাতে ঘুমোতে গিয়েছিলাম একটা মুগ্ধতা নিয়ে। কারণ কিছুক্ষণ আগে আমি একজন অসাধারণ মানুষকে আবিষ্কার করেছি। এমনিই নেটে ঘোরাঘুরি করছিলাম, হঠাৎ করেই আমার মনে হল, সে অদ্ভুত ভালো একজন মানুষ। চেনাজানা মানুষের ভেতর থেকে যখন অসাধারণ একজন বের হয়ে আসে—এর চেয়ে অদ্ভুত সুন্দর ব্যাপার আর কী হতে পারে? নাকি আমাদের ম্যাথ অলিম্পিয়াড করা ছেলেমেয়েগুলো—ওরা কি এমনিতেই এত চমৎকার একেকজন মানুষ হয়? কে জানে! কিন্তু আজকের রাতটা গতকালকেও ছাড়িয়ে যাবে দেখছি। শুরু হয়েছিল খুবই সাধারণভাবে। কাজ করছিলাম, এমন সময় তটিনী ফোন দিল। মানুষজনের যে বকা খাওয়ার এত আগ্রহ থাকতে পারে—সেটা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। টাকা খরচ করে কেন মেয়েটা বকা খায়, কে জানে। কিন্তু কোন কোন দিন একটু অন্যরকম হতে বাধ্য। আম...

অথৈ সমুদ্র

ছবি
এক. আঠারোই মার্চ নিয়ে যে লিখতে পারে—সে হয় দুঃসাহসী, নাহয় গাধা। নিঃসন্দেহে আমি দ্বিতীয় দলে। মেয়েটাকে আমি প্রথম দেখি বছর দুয়েক আগে। জগদীশ বসু ক্যাম্পে। তেমন কোন বিশেষভাবে না, যে মুহূর্তে সবাই প্রথমবারের মত তাকে খেয়াল করল, আমিও করলাম। (মুদ্দাসসেরকে কি এজন্য একটা সাধুবাদ জানানো উচিত? উচিত বোধহয়।) পনেরোর সেই সেপ্টেম্বরে আমি সমুদ্রের অনেক, অনেক উপর দিয়ে ঘুরে বেড়াতাম, সমুদ্রের গভীরে যে কিছু আছে—এই নিয়ে আমার ধারণা ছিল না। কাজেই আমার বিশ্বাস, মেয়েটার সাথে যদি প্রথমবার পরিচয় না হত, কখনই দ্বিতীয় পরিচয়টা হত না। এবং অবশ্যই তৃতীয়, চতুর্থ এবং অসংখ্যবারের মত পরিচয় হত না, অবশ্যই না। অনেক ওপর দিয়ে যারা উড়ে বেড়ায়, তাদের পক্ষে সমুদ্রের গভীরে থাকা মানুষগুলোর সাথে যোগাযোগ করা কঠিন। কাজেই মেয়েটার সাথে আমার কখনই কথা হয়নি। কেবল ক্যাম্পের শেষদিন, সেই ঘোরলাগা সকালে চলে আসার আগে বলে এসেছিলাম, ভালো থাকিস। এমনিই বলেছিলাম, সাদাসিধে ভদ্রতা যেটাকে বলে। সমস্যাটা শুরু হল… আগস্টে? সম্ভবত। পুরো একটা বছর পার করে, আগস্টের এক সকালে আমরা ক’জন একটা স্কুলের গেট পার করে ভেতরে ঢুকলাম, আর গেটের ঠিক সা...

না পিচ্চি - না বুড়ো

ছবি
জগদীশ বসু একটা গল্পের ফ্যাক্টরি। প্রতিবছর একগাদা গল্পের জন্ম হয় এই ক্যাম্পে, আর জন্ম হয় কয়েকজন মানুষের। গত জগদীশ ক্যাম্পে যাদের জন্ম হয়েছে তাদের একজন আজরা। মেয়েদের বয়স জিজ্ঞেস করতে নেই, তাই পৃথিবীর সাতশো কোটি মানুষের কেউ বলতে পারে না আজরার বয়স কত। তবে মেয়েটার সাথে পাঁচ মিনিট কাটালেই যে কেউ বলে ফেলতে পারবে, আজরার বয়স কমবেশি একশো বছর, কিংবা তারও বেশি। ক্যাম্পের এমন কোন বুড়ো নেই যে আজরার কাছে বকা খায়নি। বকা খাওয়ার কারণগুলোও বড় গুরুতর। শাফিন ভাই বকা খেয়েছে, কারণ সে জলের গান শোনে না। আমি খেয়েছি, কারণ মেকানিক্সের লেকচারটা কঠিন হয়ে গেছে। ইবরাহিম ভাই খেয়েছে, কারণ সে আজরার খাতা লুকিয়ে রেখেছিল। আমার এই বুড়ো বোনটা অবশ্য পড়ে ক্লাস সেভেনে। গার্লস ক্যাম্পের শেষদিনের লেকচারগুলো যখন আধ্যাত্মিক পর্যায়ে চলে যেতে শুরু করল, তখন বুড়োটা হতাশ হয়ে ক্লাসের পেছনের বেঞ্চে বসে পড়ল। আমি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম, জগদীশ বসুর কল্যাণেই কিনা কে জানে, স্পষ্ট বুঝতে পারলাম কী ভাবছে পিচ্চিটা। তার পাশে বসে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলাম, ক্লাস কি কিছুই বুঝতেসিশ না? পিচ্চিটা বিশাল চশমার ভেতর দিয়ে বড় বড় করে তাকিয়ে বলল, ...

মিত্রশ্রীর তৃতীয় দিন

ছবি
আমার যে রাতে হার্ট ভেঙে গিয়েছিল তার পরেরদিন আমি সারাদিন ছবি এঁকেছিলাম। তার পরেরদিনও আমি সারাদিন ছবি এঁকেছিলাম। এবং তার পরেরদিনও আমি সারাদিন শুধু ছবিই এঁকেছিলাম। ভালো লাগছিল আঁকতে। স্কুলে যেতাম বটে, ক্লাস করতাম না। কী হবে ক্লাস করে? আমাদের স্কুলে খুব চমৎকার একটা জায়গা আছে। যেই ভবনে আমাদের ক্লাস হয়—সেটার ছাদ। ছাদের দরজা সবসময় বন্ধ থাকে তো, এখানে কেউ আসে না। আমরা কয়েক বন্ধু মিলে একদিন আবিষ্কার করলাম, দরজার একটা পাল্লা ভাঙা! সেটা সরিয়ে ছাদে উঠে আবার দরজাটা জায়গামত লাগিয়ে দেই, কাজেই বাইরে থেকে বোঝা যায় না ছাদে কেউ আছে। ছাদের ওপর উঠলে বিশাল একটা মাঠ দেখা যায়। আমাদের স্কুলের মাঠ। সবাই যখন ক্লাস করত, সেই ছাদটাতে উঠে আমি বসে থাকতাম। একাই। ফাঁকা মাঠের দিকে তাকিয়ে থাকতেও ভালো লাগত। ছাদের দেয়ালে ঠেস দিয়ে বসে আমি একশোরকম চিন্তা করতাম। আর কী অদ্ভুত, আমি টানা তিনদিন ক্লাস না করে ছাদে বসে থাকলাম, আর সেই তিনদিন টানা বৃষ্টি হল। একটানা না অবশ্য, থেমে থেমে। যখন বৃষ্টি থামত, আমি ছাদের ঠিক মাঝখানটায় বসে ছবি আঁকা শুরু করতাম। আকাশ অবশ্য গুমগুম করে হুমকি দিত, যেকোনো মুহূর্তে বৃ...

এক-চতুর্থাংশ (রিয়া পাগলিনী এবং অন্যান্যরা)

ছবি
পড়ছিলাম। হঠাৎ একটা ফোন এসে সবকিছু এলোমেলো করে দিলো। আমি ঝড় আঁকতে পারি না, তবু ঝড় বয়ে যায়—অমন ঝড়ের মত সবকিছু কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেল। কী আর করা। হিসেব করতে বসি! দুই হাজার ষোলো সালের হিসেব। এক. রিয়া গত জন্মে আমার মেয়ে ছিল। কথাটা মনে আসার সাথে সাথেই আমি ফিক করে হেসে ফেলেছিলাম। আর রিয়া রীতিমত হেসে কুটিকুটি হল। হাসতে হাসতেই কোনোমতে জিজ্ঞেস করলো, ক্যান ভাইয়া? স্বীকার করছি, বেশ লাগছে। রিয়ার লেখাগুলো, আঁকাগুলো দেখলে ভ্রম হয়, আগের জন্মে নির্ঘাত বাবার কাছ থেকে শিখে এসেছে। একইরকম ভুল আঁকে, আমার মত! আর একইভাবে লেখে, সেই ভুলে ভরা গল্প।  কথায় বলে, ষোড়শ বর্ষে পুত্র মিত্র বদাচরেৎ। কন্যার ক্ষেত্রেও এটা সত্যি হওয়ার কথা। আমি এই মিত্র কন্যাটির কাছ থেকে যেই চমৎকার স্বভাবটুকু শিখেছি, সেটা সে নিজেও জানে না। সবকিছু জেনে তো কাজ নেই। কিন্তু ভালো লাগে, চারপাশের এই পবিত্র মানুষগুলোর আলো যখন আমাকে স্পর্শ করে। সত্যজিৎ রায়ের লেখা গুপী বাঘা সিনেমাটার একটা দৃশ্য ছিল। ভোর হচ্ছে কেবল। গায়ে একটা চাদর জড়িয়ে গুপী গান গাইছে। গান শেষ করার আগমুহূর্তে দুদিকে দুহাত ছড়িয়ে গুপী বলে,...

আদ্যিকালের বদ্যি বুড়ো

ছবি
আমি বুড়ো। আদ্যিকালের বদ্যি বুড়ো। এই কথাটা অবশ্য আমি প্রায়ই বলি। মজা করেই মানুষজনকে বলি, আমি কিন্তু বুড়ো হয়ে গেছি। তার বেশ কিছু লক্ষণও দেখা যাচ্ছে বটে। আজকাল বুড়োদের সাথে বড় বকবক করি। আগে যখন দেখা হত, নদীর সাথে দুষ্টুমি করতাম, চাচী বসে বসে হাসতো। আর এখন চাচীর সাথে তুমুল আড্ডা দেই, নদী বেচারা হতাশ চোখে তাকিয়ে থাকে। কী আর করা, আমি আদ্যিকালে ফিরে যাচ্ছি। ফেসবুক একাউন্ট বন্ধ করে ফেলাটা বড় কাজে দিয়েছে। কয়েকশো মানুষের খোঁজ রাখা আমার পক্ষে সম্ভব না, ওটা মহামানবেরা পারেন। আমি নিতান্তই সাদাসিধে একটা মানুষ। আমি যেটা পারি সেটা হল, আমার আশেপাশের মানুষগুলোর খোঁজ রাখা। এই তো, অনিমেষ স্যার কেমন আছে সেটা একটু দেখা। তামান্নার সাথে একটা আইসক্রিম খাওয়া। আবির ভাইয়ের মাথার পোকাগুলো আবারও নড়েচড়ে বসলো কিনা, একটু খেয়াল রাখা। তটিনী পিচ্চিটাকে একটু বকা দেয়া, পড়াশোনার জন্য। পাশের বাসায় গিয়ে অলিন্দর সাথে গম্ভীর ফিজিক্সের তত্ত্ব আলোচনা করা। আর.... হুম, আর একটু মন খারাপ করা। বেশি না, অল্প কয়েকজনের কথা ভেবেই। যাকগে, একটু আগে এক পিচ্চির সাথে কথা বলছিলাম। আমাদের পিচ্চিগুলো ...

পেত্নী

ছবি
১০ ডিসেম্বর, ২০১৬ ঢাকা, বাংলাদেশ। প্রিয় নিঝুম, থাপ্পড় দেয়া দরকার তোকে। চিঠিটা আরেকটু নরমভাবে শুরু করা যেত, স্বীকার করছি। সত্যি বলতে কী, প্রথমে ভেবেছিলাম তোকে কিছুই বলব না জন্মদিনে। রাত সাড়ে এগারোটায় এসে মনে হল, নাহ, কিছু বলে ফেলা যায়। মানুষ হয়ে জন্ম নেয়ার এটা একটা অসুবিধা। তুই নিজেও নিশ্চিতভাবে বলতে পারবি না তুই কী চাস। আচ্ছা, তুই কী চাস? মাসকয়েক আগে একটা কথা বলেছিলি। খুব সম্ভবত আর্ট সামিটের সময়। তুই নাকি সলিচিউডের ভেতরে পরম শান্তি খুঁজে পেয়েছিস, এবং শাফিন ভাই নাকি এই নিয়ে যথেষ্ট মনটন খারাপ করছে। কথাটা যদি সত্যি হয়, শাফিন ভাইকে ঠিক দোষ দিতে পারবো না। আবার তোকেও দোষ দিতে পারবো না। তুই যেমন টুইস্ট করে সলিচিউডে গেছিস, আমি ঠিক তেমনই টুইস্ট করে সলিচিউড থেকে বের হয়ে এসেছি। এটাকে তুই কী নামে ডাকিস? আমি এটাকে জন্ম বলি। আমার অসংখ্যবার জন্ম হয়েছে। জন্মের প্রক্রিয়াটা কখনই খুব একটা আনন্দদায়ক কোনো ব্যাপার না। অসম্ভব কষ্টের ভেতর দিয়ে একেকটা জন্ম হয় এই পৃথিবীতে—সেটা যে ধরনের জন্মের কথাই বলিস না কেন। কাজেই আমার প্রতিটা জন্মই হয়েছে একেকটা ধাক্কার মধ্য দিয়ে। সেই ধাক্কায় চারপাশের...

তামান্নার কাছে চিঠি

ছবি
৬ ডিসেম্বর, ২০১৬ ঢাকা, বাংলাদেশ। ঐ, ​​বুঝছিস, আমার না, লিখতে অনেক ভালো লাগে। প্রতিটা দিন বসে বসে লিখতে ইচ্ছে করে। আর বই পড়তে ইচ্ছে করে। অবশ্য, লেখাকে পেশা হিসেবে নেয়ার ইচ্ছে কোনোকালেই ছিল না, এখনও নেই। তবু, যদি লিখতে পারতাম, মনে হয় ভালো হত। মানে, আমার ভালো লাগত আরকি।​ এবং আমার কাছে এখন মনে হয়, আমি কিছু ভুল করেছি। সবকিছু বাদ দিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে। সবকিছু বাদ দিয়েছিলাম। বন্ধু, প্রেম, জীবন, অভিজ্ঞতা—সবকিছুই। পড়াশোনাটা ছিল প্রথম প্রায়োরিটি। তোদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, আমার মত একজন মানুষের বন্ধু থাকার কথা ছিল না। তবু, তোরা ছিলি। এসএসসির পরের সময়টা, পুরো কলেজ জীবনটাই তোরা আমাকে সাপোর্ট দিয়েছিলি। অদ্ভুত একটা সময় ছিল সেটা। মনে আছে, সারাক্ষণ তোদের সাথে কথা বলতাম? দিনের একবেলা কেউ কথা না বললেই রীতিমত ঝগড়া হয়ে যেত! যেকোন দুজনের মাঝে ঝগড়া হলে তখন অন্য দুজনকে এগিয়ে আসতে হত সেই ঝগড়া থামানোর জন্য। একটা ঘটনা খুব মনে পড়ে। আমি দাদুবাড়ি যাচ্ছিলাম। আমার তো সবসময়ই মরবিড চিন্তাভাবনা। নানু মারা যাওয়ার পর থেকে সেটা আরও বেড়ে গিয়েছিল (অথবা শুরু হয়েছিল)। প্রতিবার দাদুবাড়ি যাওয়ার আগে ত...

স্বপ্নগুলো স্বপ্ন হয়েই রয়

ছবি
এক. সম্ভবত, প্রতিটা মানুষই আশ্চর্য একেকটা চরিত্র। দুই-একদিন আগে পদ্মদের বাসায় আড্ডা দিতে দিতে আরেকবার ধাক্কাটা খেলাম। হঠাৎ করেই ওদের বাসায় গিয়েছিলাম। মাসখানেকেরও বেশি হয়ে গেল, পিচ্চিটার সাথে দেখা হয় না। ফোন দেয় প্রায়ই, ব্যস্ততার কারণে ধরি না। পরে নিজেরই মন খারাপ হয়। আইজেএসও ক্যাম্পে শাওন (জেনেটিক্স ডিপার্টমেন্টের মেয়েটা) ক্লাস নিচ্ছিল সেদিন। শাওনের ক্লাসে যেহেতু আমার দাঁত ফোটানো কঠিন, চুপ করে শোনা ছাড়া অন্য কোন গতি নেই। তাই ভাবলাম, শাওন ক্লাস নিক, এই ফাঁকে আমি পদ্মদের বাসা থেকে ঘুরে আসি! দুই. পদ্মদের বাসার বেল চেপে দাঁড়িয়ে আছি। আন্টি এসে দরজা খুললেন। দরজাটা একটু ফাঁক করে হাসতে হাসতে নাটকীয় ভঙ্গিতে বললেন, কে?! এই পদ্ম, লাঠিটা নিয়ে আয় তো! সাথে একটা রাবার ব্যান্ডও নিয়ে আসিস, ও চুল বাঁধবে! আমিও হাসতে হাসতে ঢুকলাম। পদ্মদের বাসায় বিশাল একটা বুকশেলফ, সেই বুকশেলফের পাশে মেঝেতে বসে আমি আর পদ্ম দুষ্টুমি করছিলাম। পদ্ম সবকিছু খেয়ে ফেলে তো, তাই সে হচ্ছে ভোক্কস। তাই শুনে পিচ্চিটা আমার নাম দিয়েছে খোক্কস। তো, আমি আমার ভোক্কস বোনটার আঁকা জিনিসপত্র দেখছিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে...

So, so you think you can tell

ছবি
এক. জগদীশ বসু ক্যাম্প, এক, দুই, ছাড়াছাড়া, মানুষ ধরে ধরে বলা— নাহ, এভাবে আর হচ্ছে না। সবকিছু লিখে ফেলতে পারলে ভালো হত। অথৈ বলেছিল, ক্যাম্প থেকে ফেরার পর সে নাকি ক্যাম্পের স-অ-ব গল্প শুনবে! অন্তত পিচ্চিটার জন্য হলেও তো আমাকে লেখা লাগবে। সন্ধ্যার একটু পর চুপ করে বসে ছিলাম। বাইরের বাতাসটা মোটামুটি অবিশ্বাস্য লাগছিল। বাতাসে শীত-শীত ভাব নাহয় থাকতে পারে, কিন্তু এতখানি নস্টালজিয়া কীভাবে থাকে আমি জানি না। এমন সময় নদী ফোন দিল। আজকাল কী যেন মনে হয়, কারো সাথে কথা বলার সময় টুংটাং করে বাজাতে ইচ্ছে করে। নদীর বকবক শুনতে শুনতে wish you were here তোলার চেষ্টা করছিলাম। আমি টুংটাং করতেই পিচ্চিটা ওপাশ থেকে মোটামুটি চেঁচিয়ে উঠলো, ভাইয়া ভাইয়া, এইটা so you think you can tell না?? আর ঠিক এই কথাতেই আমার হিল্লোলকে মনে পড়ে গেল। হিল্লোল রায়, দিনাজপুর, এবং আরো অনেক কথা। আমি দিনাজপুরের মাটিতে শেষবার যখন দাঁড়িয়েছিলাম, সেবারও উপন্যাসটা একইভাবে আগাচ্ছিল। আমার মনে আছে, সোহান আর পুণ্য (অথবা মীমও হতে পারে) যখন আমাকে বলল, ভাইয়া ভালো থেকো, বাসায় যাচ্ছি— ঠিক সেই মুহূর্তে আমার মনে হল, আ...